
হবিগঞ্জ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব মাহদী হাসান ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ফেরার পথে তাঁকে আটক করা হয়। মাহদী নিজেই বিষয়টি দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, ব্যক্তিগত কাজে এবং ফিনল্যান্ডের ভিসার আবেদন জমা দিতে দিল্লিতে গিয়েছিলেন মাহদী হাসান। গত মঙ্গলবার ভিএফএস (VFS) সেন্টারে কাগজপত্র জমা দেওয়ার সময় অজ্ঞাত এক ব্যক্তি তাঁর অগোচরে একটি ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যেখানে মাহদীকে ‘জুলাইয়ের খুনি’ এবং ‘অপরাধী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর থেকে তিনি অপরিচিত বিভিন্ন নম্বর থেকে ক্রমাগত হুমকি ও মেসেজ পেতে থাকেন বলে মাহদী অভিযোগ করেছেন।
মাহদী হাসানের ওপর হামলার আশঙ্কা বা হুমকির বিষয়টি নজরে আসার পর দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল। আজ বুধবার তিনি বাংলাদেশে ফেরার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে গেলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাঁকে আটকে দেয়। আটক হওয়ার সাথে সাথেই মাহদী হাইকমিশনের একজন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান। হাইকমিশন বর্তমানে মাহদীর আইনি সুরক্ষা ও মুক্তির বিষয়ে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গ্রেপ্তার হওয়া এক ছাত্রনেতার মুক্তির দাবিতে ওসির কক্ষে মাহদী হাসানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। সেই ভিডিওতে মাহদীকে বলতে শোনা যায়, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।” তাঁর এই বক্তব্য তখন দেশজুড়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল এবং এর জেরে গত ৩ জানুয়ারি তাঁকে হবিগঞ্জ পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছিল। পরে তিনি আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পান। ধারণা করা হচ্ছে, সেই পুরনো ভিডিও এবং সম্প্রতি দিল্লির ভিডিওর সূত্র ধরেই তাঁকে টার্গেট করা হয়েছে।
আটক হওয়ার আগে মাহদী হাসান গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমি ব্যক্তিগত কাজে দিল্লিতে অবস্থান করছি। কেউ আমার অজান্তে ভিডিও ধারণ করে আমার অবস্থান ও ফোন নম্বর ফাঁস করে দিয়েছে। এরপর থেকেই আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাহদী হাসান ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।





