
শেষ কর্মদিবসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার আগেই গানম্যান ও গাড়িচালক বিদায় নিয়েছেন সদ্য বিদায়ী স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর কাছ থেকে। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাঁর শেষ কর্মদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই অভিজ্ঞতার কথা জানান। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের সন্ধিক্ষণে একজন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার প্রতি তাঁর ব্যক্তিগত স্টাফদের এই আচরণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান, সোমবার থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী (গানম্যান) ও গাড়িচালক অন্য মন্ত্রীদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো শুরু করেন। তিনি বলেন, “আমার গানম্যান বলছিল— ‘স্যার, আপনি যদি আজ আমাকে ছেড়ে দেন, তাহলে আমি অন্য কোনো মন্ত্রীর গানম্যান হতে পারব।’ আমি বললাম, তুমি বিসমিল্লাহ বলে চলে যাও। আমার কোনো গানম্যান দরকার নেই।”
একই অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর চালকের ক্ষেত্রেও। গাড়িচালক এসে বলেছিলেন, “স্যার, আমাকে যদি আজকে না ছাড়েন, তাহলে অন্য মন্ত্রীর গাড়ি আমি পাব না।” উপদেষ্টা তাঁকে সানন্দে বিদায় দিয়ে বলেন, “ঠিক আছে, তুমিও চলে যাও। আমি একটা জিপ নিয়ে চলে যাব।”
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন বলে দাবি করেন বিদায়ী স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিনি জানান, উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা তিনবার টেবিল চাপড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে পারায় তিনি আনন্দিত এবং এর কৃতিত্ব মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দিয়েছেন।
দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই জানিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমি দেশেই থাকব। আপাতত বাইরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই।” জীবনের ‘চতুর্থ কোয়ার্টার’ বা শেষ সময়টুকু পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সুখে-শান্তিতে কাটানোর জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।
বিদায় বেলায় সাংবাদিকদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর অবিচ্ছেদ্য অংশ।” দায়িত্ব পালনকালে সঠিক তথ্য পরিবেশনের মাধ্যমে সহযোগিতা করায় তিনি সকল গণমাধ্যমকর্মীকে ধন্যবাদ জানান।
উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী এই উপদেষ্টা গত ৬ মাস স্বরাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তর সামলেছেন। আজ নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দায়িত্ব হস্তান্তর করলেন।





