
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা অঞ্চলের কেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট। তবে বর্তমানে ফার্নেস অয়েল ও এলএনজি সংকটের কারণে খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট, ২২৫ মেগাওয়াট এবং ১০৫ মেগাওয়াটের তিনটি বড় কেন্দ্রসহ মোট ছয়টি কেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু থাকলেও তা বিশাল চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
খুলনা ৩৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আলমগীর মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমাদের সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কেবল জ্বালানি না পাওয়ায় কেন্দ্রটি চালানো যাচ্ছে না। লোড ডেসপাস সেন্টার (এনএলডিসি) থেকেও বর্তমানে চাহিদাপত্র মিলছে না।”
গ্রীষ্মের এই মৌসুমে খুলনাঞ্চলে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। বিপুল ঘাটতির কারণে এলাকাভেদে প্রতিদিন ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিতরণকারী সংস্থা ওজোপাডিকো সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান ও শপিং মল বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে। ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাকিরুজ্জামান জানান, সরবরাহ সীমিত হওয়ায় লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি অপচয় রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পখাত। সংশ্লিষ্টদের মতে, লোডশেডিংয়ের কারণে শিল্প উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।
‘প্রতিবেশ ও উন্নয়ন ফোরাম (ফেড)’-এর তথ্যমতে, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির একটি বড় অংশ পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরশীল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এই রুটে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পরিবেশ ও টেকসই জ্বালানি বিশেষজ্ঞ গৌরাঙ্গ নন্দীর মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতি-নির্ভরশীলতাই এই সংকটের মূল কারণ। তিনি বলেন, “ফার্নেস অয়েলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ ১৮ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও সৌরবিদ্যুতে তা মাত্র ৯ টাকার কাছাকাছি। এখন সময় এসেছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের বাড়ির ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপন করে প্রায় ১৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। এজন্য সৌর সরঞ্জামের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার ও ভর্তুকি প্রদানের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
নীতিগত পরিবর্তন না এলে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা ও জাতীয় অর্থনীতি আরও বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা।





