
অসময়ের কালবৈশাখী ও ভারী বর্ষণে বাঁশখালী উপজেলার লবণ শিল্পে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এসেছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে মাঠেই গলে নষ্ট হয়ে গেছে হাজার হাজার মণ লবণ। এতে উৎপাদনে হঠাৎ ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, লবণের সরবরাহ কমে গেলে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
লবণ চাষিদের ভাষ্য, গত এক সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে মাঠে উৎপাদিত লবণ পানিতে মিশে গেছে। মৌসুমের একেবারে শেষ সময়ে এমন ক্ষতিতে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গন্ডামারা, পুইছড়ী, শেখেরখীল, সরল, ছনুয়া ও কাতারিয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হলেও বর্তমানে অধিকাংশ মাঠই পানিতে তলিয়ে আছে।
চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার (৩ মে) দুপুর পর্যন্ত দেশের ১৩টি জেলার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। ঢাকা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিভাগসহ বেশ কয়েকটি অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। বিশেষ করে এসব এলাকায় ভারী বর্ষণের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন–এর লবণ উৎপাদন মনিটরিং সেলের তথ্যমতে, দেশে চলতি বছর লবণের চাহিদা প্রায় ২৭ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন। সাধারণত চট্টগ্রাম–কক্সবাজার অঞ্চলে প্রতিদিন গড়ে ৩০ হাজার টন লবণ উৎপাদিত হলেও সাম্প্রতিক বৈরী আবহাওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার টন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। শুধু ৬ থেকে ৯ এপ্রিল—এই চার দিনেই উৎপাদন কমেছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টন।
ছনুয়া এলাকার লবণ চাষি আবুল কালাম বলেন, সমুদ্রের লোনা পানি শুকিয়ে লবণ উৎপাদন করা হলেও বৃষ্টির কারণে মাঠের সব লবণ নষ্ট হয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে তারা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।
লবণ মিল মালিকদের মতে, নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত লবণের মৌসুম হলেও শেষ সময়ে কালবৈশাখীর আঘাতে এই খাতটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর চাষ কম হওয়ায় উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল, যা এখন আরও প্রকট হয়েছে।
চট্টগ্রাম বৃহত্তর কাঁচা চামড়া আড়তদার সমিতি–এর সভাপতি মুসলিম উদ্দীন জানান, কোরবানির সময় সারা দেশে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ প্রয়োজন হয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ৭৪ কেজির লবণের বস্তার দাম ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে।
অন্যদিকে, গন্ডামারা সমিতির সভাপতি আবু আহমদ জানান, বাঁশখালীতে প্রায় ১০ হাজার চাষি ও ৩০ হাজার শ্রমিক এই পেশার সঙ্গে জড়িত। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে শুধু তাদের সমিতির ৮০০ চাষিরই প্রায় ৪০ লাখ টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।





