
মো. আকাশ মাহমুদ, রাজবাড়ী প্রতিনিধি: রাজবাড়ীর কালুখালীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হযরত আলী মন্ডল (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই কালুখালী থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হযরত কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউপির মুসুরিয়া গ্রামের মৃত জসিম মন্ডলের ছেলে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) হযরত আলীর ভাবি কমলা বেগম বাদী হয়ে উপজেলার বোয়ালিয়া ইউপির বোয়ালিয়া গ্রামের রফিক বিশ্বাস (৪২), শান্ত বিশ্বাস (৩৫), রুদ্র বিশ্বাস (২৩) ও বাবু বিশ্বাস (৫০)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে কালুখালী থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কালুখালী উপজেলার বোয়ালিয়া ইউপির বোয়ালিয়া মোড় এলাকায় রফিক বিশ্বাসের চায়ের দোকানে বসে চা পান করার সময় একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে হযরত আলীকে কিল-ঘুষি মারেন রফিক। এ সময় তাঁর পকেট থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। বিষয়টি জানতে হযরত আলীর ছেলে রায়হান মন্ডল, রাশিদুল মন্ডল ও ভাতিজা হৃদয় মন্ডল রফিকের দোকানে গেলে তাঁদেরও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় নাড়ুয়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হযরত আলীকে পথরোধ করে একটি দোকানের ভেতরে নিয়ে যান অভিযুক্তরা। সেখানে রফিক বিশ্বাসের নির্দেশে শান্ত বিশ্বাস লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন এবং মারধর করে পকেট থেকে আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যান। এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কালুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তিনি বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন।
অন্যদিকে, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রফিক বিশ্বাসও হযরত মন্ডল (৫০), হৃদয় মন্ডল (২২), রাশেদুল মন্ডল (২৫), রায়হান মন্ডল (২০)সহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে কালুখালী থানায় পাল্টা অভিযোগ করেন।
তাঁর অভিযোগ, রোববার বোয়ালিয়া মোড়ে তাঁর মুদি দোকানে হযরত মন্ডল তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে বাজার সমিতির সভাপতি হাবিবুর রহমানকে ডেকে বিষয়টি জানালে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মীমাংসা করে দেন। এর কিছুক্ষণ পর হযরত মন্ডলসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন এসে তাঁকে ও তাঁর ছেলে মো. মাহাবুবুর আলম (রুদ্র)কে মারধর করেন। এতে তাঁরা শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হন। এ সময় দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়। একই সঙ্গে ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্তদের একজন রুদ্র বিশ্বাস বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। গত সোমবার তাঁদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। বরং রোববার তাঁরাই এসে তাঁদের ওপর হামলা করেন এবং দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালান।
কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হযরত আলী মন্ডলকে মারধরের ঘটনায় দায়ের করা অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপর পক্ষের রফিক বিশ্বাসের লিখিত অভিযোগও আমলে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




