
হিজরি নববর্ষ উপলক্ষে যথারীতি নতুন গিলাফে সজ্জিত করা হলো পবিত্র কাবা শরিফ। বুধবার (২৫ জুন) আসরের নামাজের পর থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার সকালে গিলাফ পরিবর্তনের কাজ সম্পন্ন হয়। সৌদি আরবের ইসলামিক বিষয়ক কর্তৃপক্ষ এবং কাবা পরিচালনা কমিটির তত্ত্বাবধানে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয় এই পবিত্র কার্যক্রম।
সৌদি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, পবিত্র কাবার গিলাফ—যা কিসওয়া নামে পরিচিত—প্রতি বছর নতুন হিজরি বছরের সূচনায় পরিবর্তন করা হয়। নতুন গিলাফটি মক্কার কিং আব্দুল আজিজ কিসওয়া কমপ্লেক্সে তৈরি করা হয় এবং একটি আনুষ্ঠানিক কাফেলার মাধ্যমে তা মসজিদুল হারামে আনা হয়।
কিভাবে গিলাফ পরিবর্তন হয়:
প্রথমে কাবার উপরের অংশে গিলাফের প্রতিটি অংশ আলাদাভাবে তুলতে হয়, তারপর নিচের দিকের পুরনো গিলাফ খুলে ফেলা হয়। এ প্রক্রিয়াটি চার ধাপে সম্পন্ন করা হয়। শেষে কাবার দরজার পর্দা (সিতার) নামানো হয়, যার দৈর্ঘ্য ৬.৩৫ মিটার এবং প্রস্থ ৩.৩৩ মিটার।
গিলাফ তৈরির বিবরণ:
-
গিলাফটি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় ১১ মাস।
-
এতে ব্যবহৃত হয় ৪৭টি খাঁটি রেশমি কাপড়ের টুকরা।
-
গিলাফে সূচিকর্ম করা হয় ৬৮টি কোরআনের আয়াত—বিশুদ্ধ সোনা ও রূপার সুতো দিয়ে।
-
গিলাফের ওজন প্রায় ১,৪১৫ কেজি।
-
আয়াতগুলো সূচিকর্মে ব্যবহৃত হয় ২৪ ক্যারেট স্বর্ণপ্রলেপযুক্ত সুতো।
প্রথম ধাপে, পানির ফিল্ট্রেশনের মাধ্যমে সুতাগুলো পরিষ্কার করা হয়, পরে রঙকরণ ও কাপড় তৈরির প্রক্রিয়া চলে। এরপর দক্ষ কারিগরেরা সূক্ষ্ম কোরআনিক আয়াত ও ইসলামি নিদর্শনগুলো সূচিকর্ম করেন।
গিলাফ পাঠানোর পদ্ধতি:
তৈরির পর নির্দিষ্ট মোড়কে মুড়িয়ে বিশেষ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় গিলাফটি মসজিদুল হারামে পাঠানো হয়।
এই পবিত্র রীতিকে ঘিরে প্রতিবছর মুসলমানদের মধ্যে এক ধরনের আধ্যাত্মিক আবেগ ও সম্মানবোধ কাজ করে। মুসলিম বিশ্বের জন্য এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং তা হিজরি নতুন বছরের সঙ্গে একটি পবিত্র সূচনার প্রতীকও বটে।





