
উইমেনস এশিয়ান কাপের বাছাই পর্বে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলের ঐতিহাসিক জয়ে উচ্ছ্বসিত পাহাড়ি কন্যা ঋতুপর্ণা চাকমার মা বসুবতি চাকমা। মিয়ানমারের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে দুটি গোলই করেন ঋতুপর্ণা। সেই মুহূর্তে রাঙামাটির ঘাগড়া মঘাছড়ি গ্রামের বাড়িতে বসে মেয়ের খেলা মোবাইলে দেখছিলেন মা।
খেলা শেষে ভিডিও কলে মেয়ের জয়ের খবর পেয়ে আবেগে কেঁদে ফেলেন বসুবতি চাকমা। তিনি বলেন, “আমি যে খুশি হয়েছি, তা বলে বোঝানো যাবে না। নিজের সন্তানরা ভালো কিছু করলে বুক ভরে যায়। আমি মোবাইলে খেলা দেখে দুইটা গোলের সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি।”
বসুবতি চাকমা আরও বলেন, “আমি সবসময় মেয়ের জন্য দোয়া করি, সে যেন দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারে। মেয়ের খেলায় এখন পুরো এলাকা আনন্দে মেতে উঠেছে। দুদিন ধরে সবাই আমাদের বাড়িতে এসে অভিনন্দন জানাচ্ছে।”
ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে ৭৩ ধাপ এগিয়ে থাকা মিয়ানমারকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো উইমেনস এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। এই ঐতিহাসিক জয়ে তিন পাহাড়ি কন্যার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল—ঋতুপর্ণা চাকমা (ফরোয়ার্ড), রুপনা চাকমা (গোলরক্ষক), এবং মনিকা চাকমা (মিডফিল্ডার)।
রুপনা চাকমার বাড়ি রাঙামাটির নানিয়ারচরের ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের ভূঁইয়াদাম গ্রামে আর মনিকার বাড়ি খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায়। তিনজনের এই অর্জনে পার্বত্য অঞ্চলে বইছে আনন্দের বন্যা।





