
১৪টি স্থানে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন গ্রাম, ২৪ ঘণ্টা পার হলেও নেই প্রশাসনিক সহায়তা
ফেনীর পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও ভারতের উজান থেকে আসা পানির প্রবল চাপে মুহুরী, সিলোনিয়া ও কহুয়া নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে পড়ছে একের পর এক। এর ফলে দুই উপজেলার অন্তত ১৪টি স্থানে প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা, হাজারো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। ভাঙনের ২৪ ঘণ্টা পার হলেও এখনো কোনো প্রশাসনিক সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ করছেন দুর্গতরা।
কোথায় কোথায় বাঁধ ভেঙেছে?
পরশুরাম উপজেলায়:
-
জঙ্গলঘোনা – ২টি স্থানে
-
অলকা – ৩টি স্থানে
-
শালধর – ১টি স্থানে
-
গদানগর (সিলোনিয়া নদী) – ১টি
-
সাতকুচিয়া (কহুয়া নদী) – ২টি
-
বেড়াবাড়িয়া (কহুয়া নদী) – ১টি
ফুলগাজী উপজেলায়:
-
উত্তর শ্রীপুর – ১টি
-
দেড়পড়া (সিলোনিয়া নদী) – ২টি
-
দৌলতপুর (কহুয়া নদী) – ১টি
বাঁধ ভাঙার সময়: মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিকেল থেকে
বর্তমান অবস্থা: নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে, পানির প্রবল স্রোত অব্যাহত
দুর্গতদের করুণ অবস্থা
ফুলগাজীর মুন্সিরহাট গাইনবাড়ি এলাকার আছমা আক্তার জানান:
“রাত থেকে ঘরে পানি ঢুকছে। কিছু জিনিস ওপরে তুলেছি। এখনো প্রশাসনের কাউকে আসতে দেখিনি। খাবার আর নিরাপদ পানি না থাকায় পরিবার নিয়ে অসহনীয় কষ্টে আছি। গত বছরের ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠিনি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকদের দায়সারা কাজের কারণেই আবারও ডুবতে হলো।”
কী বলছে প্রশাসন?
পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলা প্রশাসনের সূত্র বলছে, নদীগুলোর বাঁধে তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন রোধে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়নি, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
প্রয়োজন জরুরি সহায়তা
এই মুহূর্তে এলাকাগুলোর সবচেয়ে জরুরি চাহিদা:
-
শুকনো খাবার
-
পর্যাপ্ত পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি
-
প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা
-
আবাসন ও নিরাপত্তা
📌 সংকট মুহূর্তে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুর্গত এলাকাগুলোতে ত্রাণ, পানীয় জল এবং সুরক্ষিত আশ্রয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।





