
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিজয়ের আনন্দ তখনই মহিমান্বিত হয়, যখন বিজয়ীদের কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কথিত গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজ (৫ আগস্ট, মঙ্গলবার) সকালে একটি ভিডিও বার্তায় জাতির উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “এক বছর আগে, ২০২৪ সালের এই দিনে, বাংলাদেশের ইতিহাসের ঘৃণ্যতম ফ্যাসিস্ট পালিয়ে যাওয়ার পর আমি বলেছিলাম— বিজয়ীর কাছে পরাজিতরা নিরাপদ থাকলে বিজয়ের আনন্দ মহিমান্বিত হয়। আমি সেই বার্তাই আবার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি। আমি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের প্রতি আহ্বান জানাই, কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। মব ভায়োলেন্সকে উৎসাহিত করবেন না এবং নারীর প্রতি সহিংস আচরণ করবেন না।”
তিনি বলেন, বিএনপি চায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-দলমত নির্বিশেষে সবাই নিরাপদ থাকবে। “মায়ের চোখে বাংলাদেশ” — এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র নির্মাণই বিএনপির লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
তারেক রহমান আরও বলেন, আজ এবং আগামীর প্রতিটি ৫ আগস্ট হয়ে উঠুক গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারের দিন। এই যাত্রায় বিএনপি দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষের সমর্থন ও সহযোগিতা চায়।
আওয়ামী লীগের শাসনামলকে ‘ফ্যাসিবাদী শাসন’ হিসেবে অভিহিত করে বিএনপি নেতা বলেন, একুশ শতকে একটি স্বাধীন দেশে গুম, খুন, অপহরণ, মামলা, নির্যাতন ছিল প্রতিদিনের ঘটনা। তিনি দাবি করেন, সরকারের নির্দেশে শত শত ‘আয়নাঘর’ নামক গোপন বন্দিশালা বানানো হয়েছিল, যেখানে মানুষকে বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী এবং কমিশনার চৌধুরী আলমের এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক দিক থেকে দেশের বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, “ব্যাংকগুলোকে দেউলিয়া করা হয়েছিল। রাষ্ট্র থেকে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। অনিয়ম, দুর্নীতি আর লুটপাট ছিল নিত্যদিনের বিষয়।”
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে হয়েছিল স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। “৭১-এর শহীদদের মতোই ২৪-এর শহীদদেরও জাতি ভুলবে না,” যোগ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি হলো জনগণের সরাসরি ভোটে গঠিত দায়বদ্ধ সরকার। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে। তিনি সাবধান করে বলেন, কেউ যেন পলাতক শাসকের শাসনকালকে গৌরবের চোখে না দেখে।
৫ আগস্টকে একটি নজিরবিহীন দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সেদিন গণভবন ছেড়ে ফ্যাসিস্ট পালিয়েছে। সংসদ, আদালত, বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু করে সব জায়গা ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রীরা, খতিব, বিচারপতি—সবাই পালিয়েছিল। অথচ আজও তাদের অনুশোচনা নেই।”
তারেক রহমান বলেন, শহীদের রক্তস্নাত পথ ধরে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে। বাংলাদেশে আর কখনো ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেওয়া হবে না। কাউকে গণতন্ত্র হত্যা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক করে বলেন, “ভিন্নমত হোক, বিরোধ হোক, তা যেন কখনো চরমপন্থা, উগ্রবাদ কিংবা ফ্যাসিবাদের উত্থান বা পুনর্বাসনের পথ না করে তোলে।”
বক্তব্যের শেষে তারেক রহমান বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসন এবং শাসনে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণকে শক্তিশালী করতে না পারলে কিছুই টেকসই হবে না।”
তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আগামী দিনগুলোতে গণতন্ত্র এবং মানবিক বাংলাদেশ গঠনে জাতীয় ঐক্য ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।





