
রাজবাড়ীতে কুয়েতে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ১০ যুবকের কাছ থেকে সাড়ে ২২ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি দালাল চক্র। দেড় মাসে বিদেশ পাঠানোর কথা বলে টাকা নিলেও দেড় বছর কেটে গেলেও কেউই কুয়েতে যেতে পারেননি। উল্টো টাকা ফেরত চাইলে দালালের হুমকির মুখে পড়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগী সোহান মৃধা, সেহান মোল্লা, মাসুদ মোল্লা, ওয়াসিম শেখসহ অন্যরা জানান, তারা সবাই কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। রাজবাড়ী শহরের সজ্জনকান্দার আদম ব্যবসায়ী মো. হারুন তাঁদের এলাকার জামাই। সদর হাসপাতালের সামনে তাঁর একটি ওষুধের দোকানও রয়েছে। পরিচয়ের সুবাদে হারুন তাঁদের কুয়েতে ভালো চাকরির লোভ দেখান। পরে ১০ জনের কাছ থেকে মোট সাড়ে ২২ লাখ টাকা নেন তিনি।
তাঁরা জানান, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বিদেশে পাঠানোর কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেননি হারুন। বরং টাকা ফেরত চাইলে নানান অজুহাত ও হুমকি দিতে থাকেন তিনি।
অভিযুক্ত হারুন টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “আমি টাকাগুলো আমার পরিচিত আছমত ফকির নামে একজনকে দিয়েছি। তিনিই তাঁদের কুয়েতে পাঠানোর কথা। এখন তিনিই বারবার সময় দিচ্ছেন।” বিষয়টি সমাধানের আশ্বাসও দেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১০ আগস্ট ভুক্তভোগী সোহান মৃধার বাবা জলিল মৃধা হারুনকে একমাত্র আসামি করে কালুখালী আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি।
সিআইডি রাজবাড়ী কার্যালয়ের ইনচার্জ সহকারী পুলিশ সুপার আমানউল্লাহ আমান প্রথম আলোকে বলেন, “তদন্তে দেখা গেছে, হারুন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে আছমত ফকিরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিয়েছেন। আছমত ফকিরের বিরুদ্ধে এর আগেও ফরিদপুরে প্রতারণার একটি মামলা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, প্রাপ্ত তথ্য–উপাত্ত যাচাই করে হারুন ও আছমত ফকিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।





