
রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে ব্ল্যাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে জরেজুল ইসলাম (জরেজ) ও তার প্রেমিকা শামিমা আক্তার কোহিনুরকে।
শনিবার কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে ব্রিফিংয়ে র্যাব–৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন জানান, নিহত আশরাফুলের সঙ্গে আগেই ফোনে সম্পর্ক তৈরি করেন শামিমা। নিয়মিত অডিও–ভিডিও কলে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে তাকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করা হয়। ১১ নভেম্বর রাতে ব্যবসায়িক পাওনার কথা বলে আশরাফুল ঢাকায় আসেন এবং শনির আখড়ার নূরপুর এলাকায় তারা ভাড়া করা একটি বাসায় যান। সেখানে শামিমা মালটার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাকে পান করান। অচেতন হওয়ার পর জরেজ এসে দুজনের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন, যাতে পরে অর্থ আদায় করা যায়। পরদিন ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ তার হাত–পা বেঁধে মুখে কসটেপ লাগান। এরপর ইয়াবার নেশায় বেপরোয়া হয়ে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করেন। হত্যার পর লাশ পাশের ঘরেই ফেলে রেখে একই বাসায় রাত কাটান জরেজ ও শামিমা।
র্যাব জানায়, হত্যার পর লাশ ২৬ খণ্ডে কেটে দুটি নীল ড্রামে ভরে গুমের চেষ্টা করা হয়। ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট এলাকার একটি পানির পাম্পের কাছে উক্ত ড্রাম দুটি থেকে লাশ উদ্ধার করে শাহবাগ থানা–পুলিশ। আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণে লাশটির পরিচয় নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর পালানোর চেষ্টা করলে ১৪ নভেম্বর কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড় বিজরা এলাকা থেকে শামিমাকে গ্রেফতার করে র্যাব–৩। তার মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত জব্দ করা হয়েছে। শামীমা হত্যার পরিকল্পনা, ব্ল্যাকমেইল এবং লাশ গুমের পুরো প্রক্রিয়ায় সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে র্যাব।





