
দেশের অর্থনীতির নাজুক পরিস্থিতিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব ঘাটতি আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পক্ষ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর প্রবল চাপ থাকা সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে সংস্থাটি। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসেই রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি টাকা। বিশেষ করে আয়কর ও শুল্ক-কর আদায়ের ক্ষেত্রে এই বড় ধরনের ধস লক্ষ্য করা গেছে।
আয়কর খাতে সবোর্চ্চ ঘাটতি এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, রাজস্ব ঘাটতির প্রায় অর্ধেকই এসেছে আয়কর ও ভ্রমণ কর খাত থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ এককভাবে আয়কর খাতেই ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকার বিশাল ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যদিও এনবিআরের দাবি, এই খাতে গত বছরের তুলনায় ১৫.১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে।
শুল্ক ও ভ্যাট খাতের চিত্র শুল্ক খাতের পরিস্থিতিও সন্তোষজনক নয়। ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা, যা ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকার ঘাটতি নির্দেশ করে। অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে ভ্যাট আদায়ের হার কিছুটা বেশি থাকলেও সেখানেও ৩ হাজার ৮১৭ কোটি টাকার ঘাটতি রয়ে গেছে। ভ্যাট খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৬২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা।
কেন এই পরিস্থিতি? এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, বৈদেশিক বিনিয়োগে মন্দা, শিল্পায়নের ধীরগতি এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা এই ঘাটতির প্রধান কারণ। শুল্ক ও আয়কর আদায়ের গতি বাড়ানো সম্ভব না হওয়ায় সার্বিক অর্থনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তবে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে ভোক্তাদের কাছ থেকে ভ্যাট আদায় গত বছরের তুলনায় প্রায় ২২ শতাংশ বেড়েছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ আইএমএফ-এর শর্ত অনুযায়ী বাজেট সহায়তা পেতে হলে কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো অপরিহার্য। এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, রাজস্ব ঘাটতি সামাল দিতে হলে শুধু ভ্যাটের ওপর নির্ভরশীল না থেকে করের পরিধি বাড়ানো এবং নতুন নতুন উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। নতুবা অর্থবছরের শেষে এই ঘাটতি আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে।





