
গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট জয়ী হলে দেশে ফ্যাসিবাদ, জবরদখল ও চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ থাকবে না—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন চায়। তবে “হ্যাঁ” ভোট বিজয়ী না হলে সরকার গঠন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে না।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, যারা নির্বাচনে জেতার আগেই নারী নির্যাতন ও বিরোধী মত দমনে কঠোর অবস্থান নেয়, তারা ক্ষমতায় গেলে দেশ কতটা নিরাপদ থাকবে—তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন থেকে যায়।
ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট পাস হলে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন বন্ধ হবে। এ কারণেই নতুন ফ্যাসিস্ট শক্তিগুলো গণভোটের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ক্ষমতায় গেলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। তার ভাষায়, জনগণের স্বার্থ রক্ষায় ন্যায়ের পাল্লায় কোনো হেরফের হবে না; এ দেশে পরিবারতন্ত্র বা দলতন্ত্র নয়, জনগণের রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড আর অন্যদিকে নারীদের প্রতি সহিংসতা—এ দুটো একসঙ্গে চলতে পারে না। জামায়াতের আদর্শিক প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা বা নারীদের লাঞ্ছিত করা হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
নিরাপদ বাংলাদেশ গঠন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত দেশের অন্যতম নির্যাতিত দল। গত ১৭ বছর কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও দলটি মানুষের পাশে ছিল।
বিএনপির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, কেউ উসকানি দিয়ে সংঘাতে জড়াতে চাইলে তারা চুপ থাকবে না; ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না।
দেশজুড়ে বিভিন্ন সিন্ডিকেটের প্রভাবের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ক্ষমতায় গেলে এসব সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে। বেকার ভাতার পরিবর্তে দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির ওপর জোর দেওয়া হবে। নারীদের জন্য পৃথক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণশৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।





