
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪৫) মারা গেছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
বুধবার বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসন ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় এই ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেল ৩টার দিকে অনুষ্ঠানস্থলে বসা এবং সামনের সারির চেয়ার দখল নিয়ে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থক কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রণক্ষেত্রে রূপ নেয়।
উভয় পক্ষের সমর্থকরা লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষে সভামঞ্চের কয়েকশ চেয়ার এবং অন্তত ১০-১২টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। সংঘর্ষে অন্তত ৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে।
তিনি অভিযোগ করেন, “বিএনপি সমর্থকরা পরিকল্পিতভাবে বিলম্বে এসে আমাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তারা রেজাউল করিমকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে।”
পাল্টা অভিযোগ করে তিনি বলেন, “জামায়াতই উসকানিমূলক আচরণ করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। আমাদের অনেক নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন।”
শেরপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় জামায়াত নেতাকে ময়মনসিংহে পাঠানোর সময় তিনি মারা যান। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মিজানুর রহমান ভূঞা জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা এড়াতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নিহত মাওলানা রেজাউল করিম পেশায় একজন শিক্ষক (ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবির প্রভাষক) ছিলেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।





