
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন—এমন তথ্য শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়। জাতিসংঘের অধীনে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার তদন্ত এবং জড়িতদের বিচারের দাবিতে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে যাত্রাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানানো হয়েছে।
বিকেল আনুমানিক ৩টা ৫০ মিনিটে আন্দোলনকারীরা ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের ব্যারিকেড অতিক্রম করে যমুনার দিকে অগ্রসর হতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জলকামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের আরও কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ফাতেমা তাসনিম জুমা (মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক, ডাকসু), শান্তা আক্তার (সদস্য, জকসু) এবং সালাউদ্দীন আম্মার (জিএস, রাকসু)।
আহত অবস্থায় আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক বলেন, চিকিৎসাধীন তিনজনের মধ্যে কেউ গুলিবিদ্ধ নন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে, হাদি হত্যার বিচার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা যমুনার সামনে অবস্থান নেন। একই দাবিতে শুক্রবার জুমার নামাজের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে জমায়েতের ডাক দেওয়া হয়। সংগঠনের একটি অংশ তখনও যমুনার সামনে অবস্থান করছিল।
এদিকে, সকাল থেকেই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীরা ‘সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে যমুনার সামনে অবস্থান নেন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে।
এ সময় যমুনার সামনে থাকা ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদেরও সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে আন্দোলনকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে আন্দোলনকারীরা পাল্টা ইট-পাটকেল ছোড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে কয়েকজন আহত হন, যাদের পরে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের শাহবাগ এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা যায়। বিকেল ৫টায় সংগঠনটির ফেসবুক পোস্টে সহযোদ্ধাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।





