
দীর্ঘ ১৭ বছর পর অনুষ্ঠিত একটি প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনে প্রথম জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ঝিনাইদহ-১ (শৈলকূপা) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও বিশিষ্ট আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই ফলাফল নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফলাফলের পরিসংখ্যান রিটার্নিং কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবকটি কেন্দ্রের ভোট গণনা শেষে মো. আসাদুজ্জামান পেয়েছেন ১,৭১,৫৯৮ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১-দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিউর রহমান পেয়েছেন ৫৫,৫৭৭ ভোট। বিপুল ভোটের এই ব্যবধানে জয়ের মধ্য দিয়ে মো. আসাদুজ্জামান এই সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রথম জয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করলেন।
নির্বাচনী প্রেক্ষাপট এবারের নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। ইসি সচিবালয়ের তথ্যানুযায়ী, দুপুর ২টা পর্যন্ত সারা দেশে গড় ভোটের হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ। তবে বিকেলের দিকে ভোটার উপস্থিতি আরও বাড়ায় চূড়ান্ত গড় হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচনে দেশের মানুষ অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছেন।
বিজয়ী প্রার্থীর প্রতিক্রিয়া বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর মো. আসাদুজ্জামান এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “এই জয় আমার নয়, এই জয় শৈলকূপার জনগণের। ১৭ বছর পর মানুষ বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে এবং স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পেরেছে। আমি শহীদদের রক্ত ও জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করব।”
অন্যদিকে, জামায়াত প্রার্থী মতিউর রহমান ফলাফল মেনে নিয়ে বিজয়ী প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং এই নির্বাচনকে গণতন্ত্রের পথে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
এক নজরে ঝিনাইদহ-১ ফলাফল:
-
বিজয়ী: মো. আসাদুজ্জামান (বিএনপি)।
-
নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী: মতিউর রহমান (জামায়াতে ইসলামী)।
-
ভোটের ব্যবধান: ১,১৬,০২১ ভোট।
-
ভোটার সংখ্যা (আসনভিত্তিক): ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি।





