
কুখ্যাত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের গোপন ইমেইল যোগাযোগ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক প্রকাশ্যে আসার পর পদত্যাগ করেছেন দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক বন্দর ও লজিস্টিকস জায়ান্ট ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী সুলতান আহমেদ বিন সুলাইয়েম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নতুন নথিতে দেখা গেছে, এক দশকের বেশি সময় ধরে সুলতান বিন সুলাইয়েম ও এপস্টেইনের মধ্যে শত শত ইমেইল আদান-প্রদান হয়েছে। ২০০৮ সালে এপস্টেইন যৌন অপরাধে দণ্ডিত হওয়ার পরও তাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। এই নথিপত্র ফাঁস হওয়ার পর বৈশ্বিক অংশীদার ও বিনিয়োগকারীদের তীব্র চাপের মুখে সুলাইয়েম পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
সুলাইয়েমের বিদায়ের পর শুক্রবার ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নতুন নেতৃত্বের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে এসা কাজিম এবং প্রধান নির্বাহী (সিইও) হিসেবে যুবরাজ নারায়ণকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের ওয়েবসাইট থেকে ইতোমধ্যে সুলাইয়েমের ছবি ও নাম সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বিবিসির বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৭ সাল থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। ২০১৩ সালের একটি ইমেইলে এপস্টেইন সুলাইয়েমকে তাঁর ‘সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুদের একজন’ বলে সম্বোধন করেন। এমনকি ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে সুলাইয়েমের যাওয়া উচিত কি না, সেই পরামর্শও তিনি এপস্টেইনের কাছ থেকে নিয়েছিলেন। সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে ২০০৯ সালের একটি ইমেইল, যেখানে ‘টর্চার ভিডিও’ নিয়ে আলোচনার উল্লেখ রয়েছে।
সুলাইয়েমের এই কেলেঙ্কারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে সংকটে ফেলেছে। যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন অর্থায়ন সংস্থা (BII) এবং কানাডার অন্যতম বড় পেনশন তহবিল ‘লা কাইস’ ইতোমধ্যে এই প্রতিষ্ঠানে নতুন বিনিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি প্রিন্স অব ওয়েলসের ‘আর্থশট’ প্রকল্পও এই অর্থায়ন নিয়ে তদন্তের মুখে পড়েছে।
উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালে যৌন পাচার মামলার বিচার চলাকালীন কারাগারে আত্মহত্যা করেন। তাঁর সঙ্গে বিশ্বের আরও অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বর্তমানে মার্কিন আদালতে তদন্ত চলছে।
সূত্র: বিবিসি





