
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরবর্তী নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপি নেতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
সদ্য গঠিত মন্ত্রিসভার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের মধ্যেই ইশরাক হোসেন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লেখেন, “ঢাকা দক্ষিণ থেকে সিটি নির্বাচন করবো, ইনশাআল্লাহ্।” তাঁর এই ঘোষণার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অনুসারী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা দেখা গেছে।
অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক হোসেন ২০২০ সালে ডিএসসিসি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়ে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তবে সেই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যান।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ২০২৫ সালের মার্চে ট্রাইব্যুনাল এক ঐতিহাসিক রায়ে ইশরাক হোসেনকে ২০২০ সালের নির্বাচনে বৈধ বিজয়ী ঘোষণা করেন। এপ্রিল মাসে নির্বাচন কমিশন তাঁকে মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করলেও পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার অজুহাতে তাঁকে শপথ পড়ানো হয়নি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ইশরাক হোসেন। পরবর্তীতে তিনি নবগঠিত বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। একদিকে তিনি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আছেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ‘মেয়র’ পদটি পুনরুদ্ধারে আবারও নির্বাচনের মাঠে নামার ঘোষণা দিলেন।
মেয়র হিসেবে শপথ নিতে না পারলেও গত বছরের জুন মাসে তিনি নগর ভবনে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ‘মেয়র’ হিসেবে মতবিনিময় সভা করে আলোচনায় এসেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আইনি মারপ্যাঁচে গতবার মেয়র পদটি হাতছাড়া হলেও এবার নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় জনরায় নিয়ে নগর ভবনে ফিরতে চান এই তরুণ নেতা।
ইশরাক হোসেনের এই ঘোষণার ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আগামী নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে থেকে নির্বাচন করবেন নাকি পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে এখনও স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।





