
২৪ ঘণ্টা খোলা কন্ট্রোল রুম, ঝুঁকিপূর্ণ ১৪ কেন্দ্রে বিশেষ নজরদারি
বোরহান উদ্দিন : রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে উপজেলা প্রশাসন। ভোটারদের নির্বিঘ্ন ও নিরাপদভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে উপজেলার মোট ৫১টি ভোটকেন্দ্রকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। নির্বাচনকালীন পুরো সময় এসব ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হবে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার দৃশ্য উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে স্থাপিত কন্ট্রোল রুম থেকে রিমোট কন্ট্রোলিংয়ের মাধ্যমে সরাসরি মনিটরিং করা হবে। ভোটকেন্দ্রের ভেতর ও আশপাশে সংঘটিত যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ক্যামেরায় ধারণ ও সংরক্ষিত থাকবে।
নির্বাচনে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে উপজেলায় ৬টি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে। মোট ৫১টি ভোটকেন্দ্রে ৩০৫টি বুথে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন ৫১ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৩০৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৬১০ জন পোলিং অফিসার। এছাড়া উপজেলার ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নির্বাচন উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে কন্ট্রোল রুম, যেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও ভোটগ্রহণ কার্যক্রম সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে।
কালুখালী উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেজবাহ উদ্দিন বলেন,
“ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভোটকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হবে, যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।”
তিনি আরও বলেন,
“আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। ভোটাররা যেন নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোট দিতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
এদিকে স্থানীয় ভোটাররা উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে নিরাপত্তা বাড়বে, পাশাপাশি ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কালুখালী উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ ভোটারদের মাঝে স্বস্তি ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং নির্ধারিত ১২ তারিখে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।





