
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে মোতালেব মণ্ডল (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য আনিস মণ্ডলের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার কালীকাপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পাড়াবেলগাছী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত আনিস মণ্ডল কালীকাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং পাড়াবেলগাছী গ্রামের মৃত জলিল মণ্ডলের ছেলে। আহত মোতালেব মণ্ডল একই গ্রামের মৃত ওয়াহেদ মণ্ডলের ছেলে। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বসতবাড়ির জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোতালেব মণ্ডল ঘর নির্মাণকাজ শুরু করলে শুক্রবার সকালে আনিস মণ্ডল কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার জেরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মোতালেব মণ্ডলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে তার পেটের ডান ও বাম পাশে এবং বাম পায়ের কোমরের নিচে গুরুতর আঘাত লাগে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতের ছেলে মতিন মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার বাবার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, অতীতেও জমি দখল নিয়ে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনায় মতিন মণ্ডল কালুখালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে আনিস মণ্ডল ছাড়াও তার ছেলে সিজান মণ্ডল (২১) ও উত্তর কালুখালীর রতনদিয়া ইউনিয়নের আল-আমিন সরদার (২৩)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, তিনজন মিলে হামলায় অংশ নেন এবং হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দেশীয় অস্ত্র ও লাঠি ব্যবহার করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনিস মণ্ডল বলেন, হামলার ঘটনা সাজানো। বরং তার জমি দখল করে ঘর নির্মাণ করা হচ্ছিল বলে তিনি বাধা দেন। এতে উল্টো তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেখান থেকে সরে যান। কে বা কারা ছুরিকাঘাত করেছে, তা তার জানা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযুক্তকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।





