
গতকাল মঙ্গলবার ( ১৪ এপ্রিল) বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখের দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার একটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ছবি ভাইরাল হয়। ছবিটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি ফেসবুক পেজ থেকে ছবিটিকে কালুখালী উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বলে দাবি করে পোস্ট করা হয়। পোস্টটি পেজের অ্যাডমিন মো. মুস্তাকিম আহমেদ শেয়ার করেন, যা স্থানীয়ভাবে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে যাচাই-বাছাই করে নিশ্চিত হওয়া যায়, ভাইরাল হওয়া ছবিটি কালুখালী উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে থেকে তোলা নয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, কালুখালী উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে এ ধরনের কোনো মেলা বা অনুরূপ পরিস্থিতি ঘটেনি।
বিষয়টি সামনে আসার পরপরই কালুখালী উপজেলা প্রশাসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানায়।
এ বিষয়ে কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোশাররফ হোসেন বলেন,
“আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। তবে এখন পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ করেনি। কালুখালী মডেল মসজিদ কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ বিষয়ে কালুখালী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. আব্দুর রব বলেন,
“বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। কালুখালী উপজেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ফেসবুক পেজ থেকে যাচাই-বাছাই ছাড়া এমন একটি পোস্ট হওয়ায় আমরা বিব্রত। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাডমিন পোস্টটি মুছে ফেলেছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে জন্য তাকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে এবং যেকোনো তথ্য যাচাই করে পোস্ট করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন,
“এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রোধে উপজেলা প্রশাসন সর্বদা সজাগ রয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এ ধরনের অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি রোধে তারা সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





