
নিরাপত্তা অজুহাতে ভারত সফর বর্জন এবং সাম্প্রতিক বাজে পারফরম্যান্সের জেরে ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বড় অবনমন হয়েছে বাংলাদেশের। এর ফলে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ওয়ানডে বিশ্বকাপে সরাসরি অংশগ্রহণ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে থাকা টাইগাররা বর্তমানে ১০ম স্থানে নেমে যাওয়ায় সরাসরি কোয়ালিফিকেশনের পথ ক্রমেই সরু হয়ে আসছে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১৪ দলের বিশ্বকাপে স্বাগতিক হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি অংশ নেবে (নামিবিয়াকে বাছাইপর্ব খেলতে হতে পারে)। বাকি দলগুলোর মধ্যে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আট দল সরাসরি মূল পর্বে খেলার সুযোগ পাবে। বর্তমান র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকা ৫ নম্বরে থাকলেও জিম্বাবুয়ে রয়েছে ১১তম স্থানে। নিয়ম অনুযায়ী, শীর্ষ আটে থাকা দলগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা থাকলে র্যাঙ্কিংয়ের ৯ম স্থানে থাকা দলটিও সরাসরি সুযোগ পেতে পারে।
-
৯. ওয়েস্ট ইন্ডিজ (রেটিং: ৭৭)
-
১০. বাংলাদেশ (রেটিং: ৭৬)
-
১১. জিম্বাবুয়ে (রেটিং: ৫৪ – স্বাগতিক হিসেবে নিশ্চিত)
বাংলাদেশ বর্তমানে কার্যত ১১তম অবস্থানে রয়েছে, কারণ তাদের ওপরে থাকা ৯টি দলের মধ্যে অন্তত ৮টি দলের ভেতর জায়গা করে নিতে হবে। সরাসরি কোয়ালিফাই করতে হলে ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে টাইগারদের অবশ্যই র্যাঙ্কিংয়ে অন্তত ৯ম স্থানে উঠে আসতে হবে।
সরাসরি বিশ্বকাপ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সামনে এখন প্রতিটি ওয়ানডে ম্যাচই বাঁচা-মরার লড়াই। আগামী এক বছরে টাইগারদের জন্য ঠাসা সূচি অপেক্ষা করছে: ১. মার্চ ২০২৬: ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ (১২, ১৪ ও ১৬ মার্চ)। ২. ২০২৬-এর পরবর্তী সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে হোম সিরিজ। ৩. অ্যাওয়ে সিরিজ: আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৩টি এবং জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫টি ওয়ানডে ম্যাচ।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, ২০১৫, ২০১৯ ও ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেললেও ২০২৫ সালে ওয়ানডে ম্যাচ কম খেলা এবং আফগানিস্তানের কাছে সিরিজ হার বাংলাদেশকে র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে দিয়েছে। এছাড়া বিসিসিআই-এর সাথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত টানাপোড়েনে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করাটাও দলের আত্মবিশ্বাসে বড় ধাক্কা দিয়েছে।
বাংলাদেশ যদি আসন্ন পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে জয়লাভ করতে পারে, তবেই কেবল শীর্ষ নয়ে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হবে। অন্যথায়, ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে দীর্ঘ সময় পর বাংলাদেশকে আবারও বিশ্বকাপের জন্য ‘বাছাইপর্ব’ বা কোয়ালিফায়ার রাউন্ড খেলার তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে।





